Sunday 06 April, 2025

যাত্রীদের ক্ষোভ: ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ১২০০ টাকা, কেউ নেই দেখার

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: 22:44, 5 April 2025

যাত্রীদের ক্ষোভ: ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ১২০০ টাকা, কেউ নেই দেখার

যাত্রীদের ক্ষোভ: ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ১২০০ টাকা, কেউ নেই দেখার

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে রাজধানীমুখী যাত্রা শুরু করেছেন মানুষ। সেই সুযোগে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পোশাকশ্রমিকসহ স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ।

শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পরিবহন কাউন্টারগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সরজমিনে দুপুরে সাদুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, শত শত কর্মজীবী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। তারা জানান, সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকার নিয়মিত ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও এখন বাসগুলো ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে।

পলাশবাড়ির আব্দুর রশিদ জানান, “অনেক অনুরোধ করেও ১১৫০ টাকায় টিকিট পেয়েছি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৫০০ টাকা। পরিবহন মালিকদের কোনো জবাবদিহি নেই।”

সাদুল্লাপুর নিবাসী পোশাকশ্রমিক ফরিদুজ্জামান বলেন, “বেতন-ভাতা না পেয়েও ঈদ করতে বাড়ি এসেছি। এখন ফিরতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এটা অনেক বড় জুলুম। অথচ এসব দেখার কেউ নাই। কার কাছে বলব, কার কাছে অভিযোগ করব জানি না।”

সূর্য পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার বিটুল মিয়া অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে দাবি করলেন, “বাসগুলো অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ফিরছে, তাই একটু বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।” একই বক্তব্য মায়ের আশীর্বাদ পরিবহনের ম্যানেজার স্বপন খানেরও। অথচ সরেজমিনে কোনো বাসেরই সিট খালি দেখা যায়নি। সব যাত্রীই ঢাকা ফিরছেন কর্মস্থলে যোগ দিতে।

গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, “নন-ব্র্যান্ড বাসগুলো দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে, আর ব্র্যান্ডেড বাসগুলো যাত্রীদের স্বল্প দূরত্বের যাত্রায়ও বেশি দূরত্বের টিকিট কিনতে বাধ্য করছে। এতে দিনমজুর, শ্রমজীবীরা বাধ্য হচ্ছেন পিকআপ বা ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করতে।”

সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, “প্রশাসনের তদারকি না থাকায় পরিবহনগুলো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”

সাদুল্লাপুর থানার ওসি মো. তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, “ভাড়ায় অনিয়ম রোধে অভিযান চালিয়ে কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।